ইজিবাইকে ব্যাটারি নির্বাচনের গুরুত্ব
বাংলাদেশের গণপরিবহন ব্যবস্থায় ইজিবাইক এবং বৈদ্যুতিক অটোরিকশা একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। তবে এই যানের প্রাণভোমরা হলো এর ব্যাটারি। বিগত বছরগুলোতে সাধারণ লেড-এসিড বা ওয়াটার ব্যাটারি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হলেও বর্তমানে অত্যাধুনিক LiFePO4 (লিথিয়াম আয়রন ফসফেট) ব্যাটারি চালক ও মালিকদের প্রথম পছন্দে পরিণত হয়েছে।
১. ওজন ও বডি ব্যালান্স
একটি প্রচলিত ৫-প্যাকের ওয়াটার এসিড ব্যাটারির ওজন প্রায় ১৪০ থেকে ১৫০ কেজি। পক্ষান্তরে একটি সম্পূর্ণ বেনজি ৬০V ১৮৪Ah লিথিয়াম ব্যাটারি প্যাকের ওজন মাত্র ৬০ থেকে ৬৫ কেজি। প্রায় অর্ধেক ওজন কমে যাওয়ায় ইজিবাইকের মোটর ও চ্যাসিসের উপর চাপ কমে এবং গাড়ির গতি বৃদ্ধি পায়।
২. চার্জিং সময় ও বিদ্যুৎ বিল সাশ্রয়
লেড-এসিড ব্যাটারি সম্পূর্ণ চার্জ হতে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা সময় প্রয়োজন হয়। অন্যদিকে আধুনিক ফাস্ট চার্জার দিয়ে লিথিয়াম ব্যাটারি মাত্র ২.৫ থেকে ৩.৫ ঘণ্টার মধ্যেই ৮০-১০০% চার্জ সম্পন্ন করা যায়। এর ফলে দ্রুত রাস্তায় গাড়ি নামানো যায় এবং বিদ্যুৎ খরচে প্রতি মাসে প্রায় ২৫-৩০% সাশ্রয় হয়।
৩. দীর্ঘস্থায়িত্ব ও সাইকেল লাইফ
সাধারণ ওয়াটার ব্যাটারির গড় আয়ু ৮ মাস থেকে ১ বছর। অপরদিকে উন্নত গ্রেড-এ LiFePO4 সেলে তৈরি বেনজি লিথিয়াম ব্যাটারির সাইকেল লাইফ ২৫০০ থেকে ৩৫০০ বার, যা নিয়মিত ব্যবহারে ৩ থেকে ৫ বছর পর্যন্ত অনায়াসে সেবা প্রদান করে।
পরামর্শ: প্রাথমিক ক্রয়ে লিথিয়াম ব্যাটারির দাম কিছুটা বেশি মনে হলেও ৩ বছরের হিসেবে এটি সাধারণ ব্যাটারির চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি লাভজনক ও ঝামেলামুক্ত।